আপেল পুস্টিতে ভরপুর এবং মানব স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি একটি ফল
আপেল পুস্টিতে ভরপুর এবং মানব স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি একটি ফল
ডাক্তার রা আমাদের নিয়মিত একটা ফল খাবার পরামর্শ দেন, আর আপেল ফলেদের মধ্যে
অন্যতম একটি ফল, আমরা আজ আপেল খাবার উপকারিতা এবং কেনো আমাদের প্রত্যেক দিন একটা
আপেল খাওয়া উচিত তা একটু জেনে নেই ।
আপেলে অধিক মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস পাওয়া যায়
যেটি ক্যান্সার, হাইপারটেনশন, ডায়বেটিস এবং হৃদরোগের সম্ভাবনা কম করতে সাহায্য করে,আপেল অ্যালজাইমার্স,
পারকিনসন, গলব্লাডার স্টোন,এবং অ্যানিমিয়াতেও উপকারী।
আপেলে পাওয়া পুষ্টি গুনাগুন, আপেলে পাওয়া পুষ্টি গুণের সংখ্যা অনেক বেশি,
আপেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন মিনারেল এবং ফাইবার পাওয়া যায়, এছাড়াও
ভিটামিন k পটাশিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানীজ্, ইত্যাদির মতন উপকারী পুষ্টি পাওয়া যায়,আপেলকে পুষ্টির এক অন্যতম প্রাকৃতিক
উৎস বলা হয়।
আপেল আপনার কোলেস্টেরল (Cholestrol) নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে,আপেলে মজুদ দ্রবণীয় ফাইবার
শরীরের কোলেস্টেরল এর মাত্রা কম করতে কার্যকরী ভুমিকা রাখে, আপেলে মজুদ ফাইবার আপনার
শরীরের LDL অথবা bad cholesterol এর মাত্রা কম করতে সাহায্য করে, এছাড়াও good cholesterol অথবা HDL এর মাত্রা বৃদ্ধি করতে
সাহায্য করে, রিসার্চে দেখা গিয়েছে প্রত্যেকদিন আপেল খেলে LDL মাত্রা 23 শতাংশ কম হতে পারে।
আপেলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি, আপেল স্ট্রোকের (stroke) সম্ভাবনা কম করে, ভিবিন্ন গবেশনা থেকে জানা
গিয়েছে নিয়মিত আপেল খেলে thrombotic
স্ট্রোকের সংখ্যা কম
করে, স্ট্রোকে (Stroke)
প্রত্যেক বছর অনেক
মাঝবয়সী এবং প্রাপ্ত বয়সে লোক মারা যান, স্ট্রোককে রুখতে ফল এবং ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়াটা উচিত।
আপেল ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে, ভিবিন্ন
গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত আপেল খেলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা একেবারেই কমে যায়,
আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিসার্চ এর গবেষকরা বলেছেন যে আপেল pancreatic
cancer হওয়ার সম্ভাবনাকে 23 শতাংশ কম করতে পারে, কর্নেল
ইউনিভার্সিটি অনুসারে, আপেলে পাওয়া যাওয়া triterpenoids যেটা ক্যান্সার সেলের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়, এছাড়াও আপেল
কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা কম করতে পারে, আপেলে থাকা ফাইবার আপনার পাচন শক্তিকে
মজবুত করে যা থেকে কোলন ক্যান্সার রুখতে সাহায্য মেলে।
আপেল পাচন ক্রিয়া (Digestion) তে সাহায্য করে, আপেলে বহুমাত্রায় ফাইবার পাওয়া যায় যেটি আপনার পাচন
ক্রিয়াতে সাহায্য করে, আপেলের ফাইবার পাচন সমস্যা কে দূরে রাখতে সাহায্য করে,
আপেল প্রাকৃতিক ফাইবারের এক অন্যতম উৎস, নিয়মিত আপেল খেলে আপনার হজম শক্তি এবং
পাচন ক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে, ফাইবার আপনার হজমের জন্য দরকারি enzymes
এর উৎপাদন করতে
সাহায্য করে।
আপেল অ্যালজাইমার রুখতে সাহায্য করে, ভিবিন্ন গবেশনায় পাওয়া গিয়েছে যে আপেল
অ্যালজাইমার্স রুখতে কার্যকারী, ডাক্তাররা বলছেন আপেল এবং আপেলের জুস মস্তিষ্কের
ক্ষয় এবং ভুলে যাওয়া সম্বন্ধিত cell-damage রুখতে সাহায্য করে, আপেলে বহুমাত্রায় পাওয়া যায়
কেরাটিন (quercetin) যেটি মস্তিষ্কের সেলের ক্ষয় কম করতে সাহায্য করে,
বয়স্কদের মধ্যে মনে না
রাখতে পারার যে সমস্যা দেখা যায় সেটা মূলত ক্ষয় থেকে হতে পারে, আপেলে পাওয়া
কেরাটিন (quercetin) বহু দরকারি eurotransmitter, acetylcholine এর উৎপাদনে সাহায্য করে,
যেটি মনে রাখার
ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
আপেল ডায়বেটিসের (Diabetes) ঝুঁকি কম করতে সাহায্য করে, আপেলে মজুদ polyphenols রক্তের sugar level নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, Polyphenols
শরীরের carbohydrate
এর শোষণ কম করে,
যেটি শরীরের blood sugar level এর ওঠানামা নিয়ন্ত্রিত রাখে, এছাড়াও polyphenols শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা
নিয়ন্ত্রিত করতে সাহায্য করে,
Insulin আমাদের শরীরের গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে, Polyphenols
শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন করতে সাহায্য করে, নিয়মিত
আপেল খেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে, ডায়াবেটিস এক মহামারির আকার ধারণ করছে এবং তাকে
দূরে রাখার উপায় খুবই কম, প্রত্যেকদিন আপেল খেলে অল্প হলেও ডায়াবেটিসের মতন
রোগকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
আপেল রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা (Immune System) বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, আপেলে
মজুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে
সাহায্য করে, এই জন্য আপেলকে নিজের নিয়মিত খাবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা আমাদের
সুস্থ জীবনের জন্য খুবই দরকার ।
আপেল, গলস্টোন (Gallbladder Stone) প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে, আপেলের অন্যতম উপকার গলব্লাডার
স্টোন হওয়ার ঝুঁকি কম করা, আপেলে মজুদ ফাইবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য
করে,কোলেস্টরলের অধিক মাত্রা গলব্লাডার স্টোন এর সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে,
গলব্লাডার স্টোন থেকে বাঁচতে হলে নিয়মিত আপেল খাওয়াটা অনেক উপকারী ।
আপেল আপনার দাঁতকে (Dental Care) মজবুত এবং সাদা করে, আপেলে মজুদ অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল
ক্ষমতা আপনার দাঁত এবং মাড়ি কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, আপেল কামড়ানোর সময় যে
রস আপনার দাঁতে লাগে সেই রস আপনার দাঁতকে পরিষ্কার এবং সাদা করতে সাহায্য করে।
আপেল ওজন কম করতেও উপকারী (Weight Loss) ভুমকা পালন করে, ভিবিন্ন
গবেশনার রিপোর্টে পাওয়া গিয়েছে যে আপেল ওজন কম করতে সাহায্য করে, আপেলে মজুদ
ফাইবার এবং জল শরীরে calorie এর দরকার কমিয়ে দেয়,
শরীরে ক্যালরি কম হলে ফ্যাট সেল থেকে শরীর ক্যালরি নিতে
থাকে, এর থেকে শরীরের ফ্যাট সেল ক্ষয় হয় এবং শরীরের সামগ্রিক চর্বি সঞ্চয় কম
হয়, এছাড়া আপেলে মজুদ কিছু কৃতিক পদার্থও ওজন কম করতে সাহায্য করে।
আপেল অ্যাজমা (Asthama) চিকিৎসায় সাহায্য করে, আপেল হল এক প্রাকৃতিক Inflammation রোধ করার অন্যতম খাদ্যদ্রব্য, যা অ্যাজমা (Asthama) এবং ফুসফুসের বিভিন্ন infection এ আপেলের জুস এবং আপেলে মজুদ কেরাটিন অনেক উপকারী, আপেলে
অধিকমাত্রায় ভিটামিন সি থাকায় আপেল কফ থেকে মুক্তিতে সাহায্য করে।
আপেল হৃদরোগের (Heart Diseases) ঝুঁকি কম করতে সাহায্য করে, আপেলে মজুদ থাকা অধিক ফাইবার
রক্তবাহ তে চর্বির জমা কম করতে কার্যকারী অবদান রাখে, এছাড়া আপেল কোলেস্টেরল এবং
স্ট্রোক থেকেও আমাদের সুরক্ষিত রাখতে পারে।
আপেল আর্থারাইটিস (Arthritis) থেকেও বাঁচাতে পারে, আপেলে মজুদ quercetin, kaempferol এবং myricetin আর্থ্রাইটিস এবং হাড়ের inflammation
সম্বন্ধিত রোগে
কার্যকারীভুমিকা রাখে, আপেলে অধিক মাত্রায় ক্যালসিয়াম মজুদ থাকে যেটি হাড় এবং
দাঁতকে মজবুত করতে সাহায্য করে, ক্যালসিয়াম osteoporosis এবং আর্থারাইটিস থেকেও
বাঁচাতে সাহায্য করে, সেইজন্য, আপেলকে নিজের খাদ্যে নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
আপেল আপনার দৃষ্টিশক্তি (Eye Sight) মজবুত করতে কার্যকারী, দেখা গিয়েছে আপেল cataract এবং glaucoma থেকে বাঁচাতে কার্যকারী,
এছাড়া আপেল আপনার দৃষ্টিশক্তি এবং রাতে দেখার (night vision) ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে
সাহায্য করে, আপেলে মজুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস চোখের
বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।
আপেল আপনার ত্বককে (Skin Care) তরুণ এবং সুন্দর রাখতে সাহায্য করে, আপেলে মজুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার
ত্বককে তরুণ এবং সতেজ রাখতে কার্যকারী অবদান রাখে, আপেলের পেস্টের সাথে দুধ এবং
মধু মিলিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বকের জেল্লা বাড়ে।
আপেল এক অন্যতম খাদ্যদ্রব্য, যেটি আমাদের নিয়মিত খাওয়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
ধন্যবাদ, আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে আমার এই লেখাটি পড়ার জন্য ।


This comment has been removed by the author.
ReplyDelete