Header Ads

Header ADS

তেঁতো ও টক স্বাদের একটি ভেষজ ঔষধি ফল আমলকী



তেঁতো ও টক স্বাদের একটি ভেষজ ঔষধি ফল আমলকী  

আমলকি তেঁতো ও টক স্বাদের একটি ভেষজ ঔষধি ফল, প্রথমত আমলকি মুখে দিলে কষালো লাগে কিন্তু কিছুক্ষন চিবানোর পরে মিষ্টি স্বাদ অনুভূত হয়, আমলকি একটি ভিটামিন সি জাতীয় ফল এবং এতে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে,যা মানব শরীরের জন্য খুবই উপকারি, আমলকির একটি বড় গুণ হলো ফ্রি রেডিকেল বা ক্ষতিকর পদার্থ থেকে শরীর কে মুক্ত রাখে।

আমলকী অনেকের কাছেই প্রিয়, তবে কাঁচা আমলকি অনেকে খেতে পারেন না, যারা কাচা আমলকী খেতে পারেননা তারা শুকনো আমলকি পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি খেলে কাঁচা আমলকির ন্যায় একই উপকারীতা পাবেন, একজন মানুষ নিয়মিত আমলকি খেলে বুড়িয়ে যাওয়া সমস্যা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে পারেন, এবং নিজেকে তরুন্দের মতো মনে হবে।

আমলকি খুবই জনপ্রিয় স্থানীয় একটি ফল, দামে সস্তা এই ফল মানুষ রুচি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে রূপচর্চা ও নানাবিধ কাজে এর ব্যবহার করে, তাই আজ আপনাদের জন্য আমলকির কয়েকটি উপকারিতা বা ব্যবহারিক দিক নিয়ে কিছু লেখা ।

আমলকী কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস চিকিৎসায় ভালো কাজ করে, আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পাইলস রোগ থেকে মুক্তি দেয়।

আমলকী স্কার্ভি দূরীকরণে সাহায্য করে, সাধারণত ভিটামিন সি এর অভাবে স্কার্ভি নামক রোগ আমাদের শরীরে বাসা বাধে, এর ফলে দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে, মাড়িতে ঘা হয়, শরীর দুর্বল হয়ে যায়, চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হয়, চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যায় এবং হাড়ের মধ্যে পরিবর্তন দেখা দেয়, অথচ প্রতিদিন মাত্র ১-২টি আমলকি খেলে এসব রুগ থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়, কারণ আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি।

আমলকী আলসার চিকিৎসায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে, নিয়মিত আমলকি খেলে পেটের আলসার সহজেই দূর হয়।
আমলকী ক্ষুধামন্দা দূর করতে সহায়তা করে, প্রতিবার খাওয়ার আগে মাখন ও মধুর সঙ্গে আমলকির গুঁড়া মিশিয়ে খেলে ক্ষুধামন্দা দূর হয়।

আমলকী দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিকরণে বিশেষ ভুমিকা রাখে, আমলকি চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে, রোদে গেলে চোখ জ্বালাপোড়া করা ভাব সহ রাতকানা ও চোখের ছানিপড়া রোগ সহজেই সারিয়ে তোলে এই আমলকী, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে আমলকি, এছাড়া চোখ লাল হওয়া, চুলকানো ও চোখ দিয়ে পানি পড়া রোধেও এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে।

আমলকী মেদ দূর করে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে দৈহিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে বিশেষ ভুমিকা রাখে,  এমনকি এটি খেলে হজম শক্তি বেড়ে যায়, ফলে মানুষ মুটিয়ে যায় না।

আমলকী চুলের যত্নে ভালো কাজ করে, আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে, চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান, আমলকি খেলে শুধু চুলের গোড়াই শক্ত হয় না, চুল দ্রুত বেড়ে ওঠে, এবং চুলকে খুশকিমুক্ত ও কম বয়সে চুল পাকা রোধে আমলকি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

আমলকী চর্মরোগের চিকিৎসায় ভালো কাজ করে প্রতিদিন সকালে মধুর সঙ্গে আমলকির রস মিশিয়ে খেলে চর্মরোগ নিরাময় হয়, তাছাড়া এটি খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং মুখের চামড়ায় কোনো দাগ পড়ে না, আমলকিতে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় ত্বকের উপরীভাগের জড়তা ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে, মানুষ বুড়িয়ে যাওয়ার একটাই কারন ফ্রি র‌্যাডিকেল, তাই আপনার ছেহারা পরিপূর্ণ সুন্দর রাখতে আমলকীর তুলনা হয় না।

আমলকীতে ভিটামিন সি ছাড়াও প্রয়োজনীয় আয়রন, ফসফরাস পাওয়া যায়,যা মানব শরীরে প্রতিদিন প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাই নিয়মিত আমলকি খেলে শরীরে আয়রন ও ফসফরাসের অভাব পূরণ হয়, তাছারা আমলকিতে রয়েছে ফাইটো কেমিক্যাল যা চুল, চোখ ও নখের জন্য অত্যান্ত উপকারী, অনেকে চোখে কম দেখে এবং চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা থাকে, তাই এই ধরনের রুগ থেকে মুক্তি পেথে আমলকি কার্যকরি ভুমিকা রাখে।

আমলকি মাথার খুসকি দূর করতে সাহায্য করে, নিয়মিত আমলকি বেটে মাথায় লাগালে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে চিরদিনের মত খুসকি দূর হবে, পাশাপাশি চুল পড়া বা হেয়ারফল বন্ধ হবে।
আমলকিতে অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় হৃদযন্ত্র ভালো থাকে, প্রতিদিন ১/২ টি করে আমলকি চিবিয়ে খেলে রক্তে কোলেষ্টেরলের মাত্রা কমে যাবে, আর কোলেষ্টেরলের মাত্রা কম থাকলে হৃদ রুগ হওয়ার আসংকা অনেকটাই কমে যায়।

আমলকি ব্রণ ও মুখের কালো দাগ দূর করে সাহায্য করে, গোসলের পূর্বে আমলকি বেটে সামান্য পানি মিশিয়ে মুখে মেখে নিন ৩০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেললে ৭ দিনের মধ্যে মুখের সমস্থ্য ব্রণ ও মুখের কালো দাগ দূর হবে, আপনার ছেহারার সুন্দরতা ফিরিয়ে আনবে।

আমলকি লিভার সুস্থ্য রাখে এবং সেই সাথে খাদ্য পাঁচক রস উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে, এর ফলে খাদ্য হজম প্রকিয়া ভালোভাবে হয় ও হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

আমলকীর বিশেষ গুনে শ্বাস প্রশ্বাসের দূর্গন্ধ দূর হয়, অনেকের টক ঢেকুর উঠে ফলে শ্বাস প্রশ্বাসে দূর্গন্ধ হয়, তাই নিয়মিত ৭ দিন কাঁচা আমলকি চিবিয়ে খেলে শ্বাস প্রশ্বাসের দূর্গন্ধ সহজেই দূর হয়, এছাড়া পেটে অ্যাসিডিটি হলে বুক জ্বালাপোড়া, গলা জ্বালাপোড়া সহ পেট ফুলে যাওয়া,  এই সমস্যা দূর করতে আমলকী ভেষজ বা মেডিসিনের ন্যায় কাজ করে।

শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট কমাতে আমলকীর জুস বা রস ভালো কাজ করে, জ্বর সহ সানবার্ন ও সানস্ট্রোক থেকে রক্ষা করে তবে যাদের কিডনিতে কোন রোগ আছে তারা অবশ্যই আমলকি খাওয়া থেকে বিড়ত থাকুন অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আমলকি বা আমলকির জুস, রস সেবন করুন।

ধন্যবাদ, আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে এই লেখাটি পড়ার জন্য ।

No comments

Powered by Blogger.