পুষ্টি গুনে ভরপুর শিম, বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় শীতকালীন সবজি
পুষ্টি গুনে ভরপুর শিম, বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় শীতকালীন সবজি
শিম একটি সবজীর নাম এটি খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সবজি, শিম, শিমের বিচি
এবং শিমের পাতাও শাক হিসেবে খাওয়া যায়, শিমের
বিচিতে রয়েছে উচ্চমানের ফাইবার প্রোটিন, যা শরীরের
জন্য খুবই প্রয়োজন, এতে কোনো কোলেস্টেরল নেই, এনার্জি বা শক্তির জন্য শিমে রয়েছে শতকরা ২০
ভাগ প্রোটিন ও উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট।
এই শীতকালীন সবজিটি বাংলাদেশের সব জেলাতেই জন্মে, ব্যবসায়ী ফলন ছাড়াও গ্রাম
বাংলার প্রতিটি বাড়ির বা বাসার আশপাশে শিমগাছ লাগানো হয়, ফলে প্রত্যেক পরিবারের
তরকারির চাহিদা যেমন পূরণ হয় তেমনি পুষ্টি চাহিদাও পরিপূর্ণ হয়,ভারতীয় উপমহাদেশে
শিমের উৎপত্তিস্থল বলে ভিবিন্ন তথ্য তেকে জানা যায়।
শিমের বৈজ্ঞানিক নাম Lablab Purpureas, এটা Papilionaceae গোত্রের লতানোজাতীয় উদ্ভিদ, শিম ৩.৮ সেমি. থেকে
৫ সেমি. চ্যাপ্টা, লম্বা বা বাঁকানো হয়ে থাকে,একটি শিমে বীজের
সংখ্যা হয় তিন থেকে পাঁচটি, শিমের বিচিও একটি জনপ্রিয় সুসাধু খাদ্য, যা মাছ, মাংস দিয়ে তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়।
পরিপক্ব শিমের বিচি একটু গাঢ় রঙের হয় এবং অবশ্যই রান্না করে খেতে হয়, অন্য
কোনো উপায়ে খেলে তা হজমের ব্যাঘাত ঘটায়, কারণ শিমের বিচিতে ট্রিপসিন রোধক এক ধরনের
পদার্থ বিদ্যমান, মানব শরীরের অগ্ন্যাশয় থেকে নির্গত এই ট্রিপসিন এক ধরনের পাচক রস, যা হজমে সাহায্য করে,
সেদ্ধ না করে খেলে পাকস্থলীতে ট্রিপসিন রস নির্গত হতে বাধ্য হয়, ফলে খাদ্য
হজমে সমস্যা দেখা দেয়,
আর রান্না করে খেলে আগুনের তাপে ট্রিপসিন রোধক পদার্থটি
নষ্ট হয়ে যায়,
শিমের উল্লেখযোগ্য খাদ্য উপাদানগুলো হল- প্রোটিন, অ্যামাইনো এসিড, স্টেরল, ফ্যাটি এসিড, পালিটিক পামিটো লেইক, লাইনোলেয়িক।
বিচিতে থাকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রোটিন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন লেকটিন, অ্যামাইনো প্রোপাইল, অ্যামাইনো অ্যালকোহল, প্রট্রোসিন, এনজাইম, কার্বোহাইড্রেট,বীজের বাকলে থাকে পেকটিক, পরিস্যাকরাইড.
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে,
প্রতি ১০০ গ্রাম খাওয়ার
উপযোগী শিমের বিচিতে খাদ্য উপাদান হল- খাদ্যশক্তি ৩৪৭ কিলো ক্যালরি, আমিষ ২৪.৯ গ্রাম, চর্বি ০.৮০ গ্রাম, শর্করা ৬০-১
গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৬০ মিলিগ্রাম, লৌহ ২.৭ মিলিগ্রাম।
শিমে দেহের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান
যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়, ক্যালসিয়াম দেহের হাড়, দাঁত ও রক্ত
জমাট বাঁধতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, ভিটামিন-এ-এর অভাবে শিশুদের রাতকানা
রোগ হয়, ভিটামিন-এ ‘রোডপসিন’ নামক এক ধরনের
রঞ্জক পদার্থ তৈরি করে, যা দিয়ে অন্ধকারে দেখতে সাহায্য করে।
শরীরের বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও চর্মরোগ মুক্ত রাখে, আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা আমাদের
শরীর গঠনে বিরাট ভূমিকা পালন করে, আমিষের অভাবে শিশুদের শারীরিক, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়, গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের
সন্তান হাবাগোবা, বিকলাঙ্গ, ত্রুটিযুক্ত মৃত
বা অপরিণত বয়সের সন্তান জন্ম দেন, শিমে ফ্ল্যাভেনয়েডজাতীয় পদার্থ থাকে, যা শরীরে ফ্রি র্যাডিকেলস তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে।
শিমে সিলিকনজাতীয় উপাদান
থাকায় দেহের হাড়কে মজবুত করে, এতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট থাকে, যা গর্ভবতী মায়েদের জন্য খুবই উপকারী।
শিমে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট নামক
উপাদান থাকে যা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য খুবই উপকারী, এতে সামান্য পরিমাণে
জিঙ্ক থাকে, যা মানবদেহের চামড়ার সজীবতা বজায় রাখে, চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, নিয়মিত শিম খেলে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের হয়ে যায়।
শিম অ্যান্টিডোট হিসেবে কাজ
করে বলে খাবারের ফুড পয়জনিং প্রতিরোধ করে, শিমে আঁশ থাকে যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য
করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, রক্তে কোলেস্টোরলের মাত্রা কমায়, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই
কমে যায়, এবং পাকস্থলী ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা কমায়।
সাদা শিম শরীরের বাত ও কফ ধ্বংস করে, ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমায়,পোকা মাকড় কামড়ালে এর পাতার রস লাগালে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
মায়েরা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান তারা নিয়মিত শিম খেলে বুকে দুধের পরিমাণ বাড়ে,এবং সবুজ রঙের শিম পেটের গ্যাস দূর করে ও রুচি বাড়ায়,শিম শরীরের তলপেটের সংকোচনজনিত ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
শিম বিচির তরকারি শরীরের বল, কামউদ্দীপনা, মূত্রবর্ধন ও জ্বর প্রশমনকারী হিসেবে কাজ করে,এবং মানব শরীর সুস্থ রাখতে অত্তান্ত গুরুত্ব পূর্ণ ভুমিকা পালন করে, তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত এই সবজিটি আপনার খাবার তালিকায় রাখতে পারেন ।
সাবধানতা : শিমে সামান্য পরিমাণ ক্ষতিকর সায়ানোজেনিক গ্লুকোসাইড থাকে, শুকনো বিচিতে এর পরিমাণ বেশি, তাই শিমের শুকনো বিচি রান্না করার সময় পানি দিয়ে সেদ্ধ করে পানি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে তারপর রান্না করতে হবে।
সাদা শিম শরীরের বাত ও কফ ধ্বংস করে, ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমায়,পোকা মাকড় কামড়ালে এর পাতার রস লাগালে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
মায়েরা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান তারা নিয়মিত শিম খেলে বুকে দুধের পরিমাণ বাড়ে,এবং সবুজ রঙের শিম পেটের গ্যাস দূর করে ও রুচি বাড়ায়,শিম শরীরের তলপেটের সংকোচনজনিত ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
শিম বিচির তরকারি শরীরের বল, কামউদ্দীপনা, মূত্রবর্ধন ও জ্বর প্রশমনকারী হিসেবে কাজ করে,এবং মানব শরীর সুস্থ রাখতে অত্তান্ত গুরুত্ব পূর্ণ ভুমিকা পালন করে, তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত এই সবজিটি আপনার খাবার তালিকায় রাখতে পারেন ।
সাবধানতা : শিমে সামান্য পরিমাণ ক্ষতিকর সায়ানোজেনিক গ্লুকোসাইড থাকে, শুকনো বিচিতে এর পরিমাণ বেশি, তাই শিমের শুকনো বিচি রান্না করার সময় পানি দিয়ে সেদ্ধ করে পানি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে তারপর রান্না করতে হবে।
ধন্যবাদ, আপনার মূল্যবান সময়
দিয়ে এই লেখাটি পড়ার জন্য ।


No comments