Header Ads

Header ADS

কামরাঙ্গা খেলে কেবল সাস্থের উপকারই হয় না, বরং আছে মৃত্যুর ঝুকি


কামরাঙ্গা খেলে কেবল সাস্থের উপকারই হয় না, বরং আছে মৃত্যুর ঝুঁকি ।


আমাদের দেশে টক জাতীয় কিছু ফলের মধ্যে কামরাঙ্গা অন্যতম  রসালো ফল, এতে আছে,পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, সুগার (পরিমাণে কম) সোডিয়াম, এসিড ইত্যাদি, এর বৈজ্ঞানিক নাম Carambola, এবং এই ফলটি বিশেষ করে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, এবং শ্রীলঙ্কা অঞ্চলের একধরণের স্থানীয় প্রজাতির উদ্ভিদের ফল ও এই ফল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া,,দক্ষিণ-প্রশান্ত এবং পূর্ব-এশিয়া অংশে খুব জনপ্রিয় একটি টক রসালো ফল ।

বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানবিভাগের প্রধান ফারাহ মাসুদা বলেন, “কামরাঙ্গা মৌসুমি ফল হলেও কোনো কোনো গাছে সারাবছর বা একাধিকবারও ফলে, এর রয়েছে রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা।

কামরাঙ্গার পুষ্টি গুণ সম্পর্কে তিনি জানান, প্রতি ১০০ গ্রাম কামরাঙ্গায় আছে ৫০ কিলো ক্যালোরি খাদ্য শক্তি,,০.৫ গ্রাম প্রোটিন, ০.১ গ্রাম ফ্যাট, ৫.১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট।

এছারাও কামরাঙ্গায় পাওয়া যায় কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, প্রতি ১০০ গ্রাম কামরাঙ্গায় ৬.১ মি.গ্রাম ভিটামিন সি, ০.৪ গ্রাম খনিজ,,১.২০ মি. গ্রাম আয়রন এবং ১১ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়,তাই মানবদেহে কামরাঙ্গা ঔষধের মত কাজ করে, কামরাঙ্গার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে তিনি আলোচনা করেন ।  

কামরাঙ্গা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বিশেষ ভাবে সহায়তা করে,কামরাঙ্গা আঁশযুক্ত ফল হওয়ায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের প্রতিকারক হিসেবে কাজ করে,  এবং খুব সহজেই এ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, যাদের হজম জনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী ফল।

কামরাঙ্গা শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়, ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, এছারাও এতে কিছু পরিমাণে পটাশিয়াম ও সোডিয়াম থাকে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, যাদের ডায়াবেটিস রোগ আছে তারা নিয়মিত কামরাঙ্গা খেলে ভালো উপকার পাবেন।

কামরাঙ্গার আছে জীবাণুনাশক ক্ষমতা যা ত্বকের নানা রকমের জটিলতা যেমন- ব্রণ, ফুসকুড়ি ইত্যাদি সমাধানে সাহায্য করে ত্বক ভালো রাখে।

কাম্রাঙ্গায় ভিটামিন সি ভালো পরিমাণে থাকায় এটি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে, তাছাড়া এটি দাঁত, মাড়ি ও হাড় সুস্থ রাখে,  রোগ প্রতিরোধ কারী ক্ষমতা থাকায় জ্বর, সর্দি, কাশি ও ঠাণ্ডাজনিত অন্যান্য সমস্যায় এই ফল প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

কামরাঙ্গা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে ,এতে থাকে এলাজিক অ্যাসিড, যা খাদ্যনালির (অন্ত্রের) ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, এছাড়াও কামরাঙ্গার রয়েছে নানা গুণ, এর পাতা, কচি ফল সবকিছুই ঔষধির কাজ করে, কামরাঙ্গার পাতা ও কচি ফলের রসে রয়েছে ট্যানিন, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

কামরাঙ্গা পুড়িয়ে ভর্তা করে খেলে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা সহজেই ভালো হয়ে যায়,এই ফলের ভর্তা রুচি ও হজমশক্তি বাড়ায়,কামরাঙ্গা একটি ঠাণ্ডা ও টক ফল, তাই ঘাম, কফ ও বাতনাশক হিসেবে কাজ করে।

তবে খালি পেটে কামরাঙ্গা না খাওয়ার পরামর্শ দেন ফারাহ মাসুদা, কারণ এতে করে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে, ফলে পেট ব্যথা বা বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সাবধানতা
কামরাঙ্গাতে আছে এমন একটি উপাদান যা মানবদেহের মস্তিষ্কের জন্য বিষ,সম্প্রতি University of Sao Paulo (Brazil) এর একদল বিজ্ঞানী এই ক্ষতিকর উপাদানটি বের করতে সক্ষম হয়েছেন।
সাধারণ মানুষেরা কামরাঙ্গা খেলে, কিডনি তা শরীর থেকে বের করে দেয়, কিন্তু কিডনি রোগীর দুর্বল কিডনি শরীর থেকে এই বিষ বের করে দিতে সক্ষম নয়, এর ফলে তা রক্ত থেকে আস্তে আস্তে দেহের মস্তিষ্কে প্রবেশ করে এবং বিষক্রিয়াও ঘটাতে পারে।

এই সমস্যার লক্ষণগুলো হল – ১।ক্রমাগত হেঁচকি দেয়া, ২। দেহ দুর্বল হয়ে যাওয়া, ৩। মাথা ঘোরানো,  
৪। বমি বমি ভাব, ৫। মাথা কাজ না করা, ৬। দেহে মৃগী রোগীর মত কাঁপুনি উঠা, ৭। কোমায় চলে যাওয়া ও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ।

কামরাঙ্গা খাওয়ার পর কিডনী রোগীর মধ্যে এই ধরণের লক্ষন গুলো দেখা দিলে দ্রুত কিডনি ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যেতে হবে এমনকি তার hemodialysis এর ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।

বহুবছর আগে থেকেই বিজ্ঞানীরা জানতেন যে,কামরাঙ্গাতে এমন একটি উপাদান আছে যা কিডনি রোগীর জন্য খুব ক্ষতিকর,কিন্তু কোন বিজ্ঞানীই এই ক্ষতিকর উপাদানটি বের করতে পারেননি, সম্প্রতি University of Sao Paulo (Brazil) এর একদল বিজ্ঞানী এই ক্ষতিকর উপাদানটি বের করতে সক্ষম হয়েছেন,
বিজ্ঞানীরা কামরাঙ্গার এই ক্ষতিকর উপদানটির নাম দিয়েছেন caramboxin, ও কামরাঙ্গার বৈজ্ঞানিক নাম Carambola হতেই এই ক্ষতিকর উপাদানটির নামকরণ করা হয়েছে।

তাই কিডনি রুগিরা কামরাঙ্গা না খাওয়াটাই উত্তম ।


ধন্যবাদ, আপনার মূল্যবান সময় দিয়ে এই লেখাটি পড়ার জন্য ।




No comments

Powered by Blogger.